পাটের বিছা পোকা

পাট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। বিশ্বে পাট উৎপাদনে বাংলাদেশ দ্বিতীয় হলেও রপ্তানিতে প্রথম। পৃথিবীর মোট পাটের ৩৩ শতাংশই উৎপাদিত হয় এ দেশে এবং কাঁচা পাটের ৯০ শতাংশই রপ্তানি হয়। তাই সোনালি আঁশের দেশ বলা হয় এ বাংলাদেশকে। তবে এ দেশের পাট চাষিরা নানাবিধ বালাই এর কারনে প্রতি বছর কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে সমস্যার সম্মুখীন হয়। এ সকল বালাইয়ের মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি বিছা পোকা। নিচে পাটের বিছা পোকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হল। 
 

পোকার বিবরণ 
 

বৈজ্ঞানিক নামঃ Spilosoma obliqua 
পূর্ণ বয়স্ক পোকা দেখতে বাদামি, কমলা বা হলুদ রঙের হয়ে থাকে। এদের পাখায় গাড় বাদামি বা কাল রঙের ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়। পূর্ণ বয়স্ক পোকা ফসলের তেমন ক্ষতি করে না। পোকার লার্ভা ও পিউপা পর্যায় দুটি মুলত ফসলের ক্ষতি করে থাকে। নিম্ফ পর্যায়ে এরা মাটির নিচে অবস্থান করে এবং প্রাপ্ত বয়স্ক হলে মাটি খুঁড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে।   
 

ক্ষতির ধরণ
 

মে থেকে আগস্ট মাসে বিছা পোকার আক্রমণ বেশি হয়। প্রাপ্ত বয়স্ক স্ত্রী পোকা পাতার নিচের দিকে গুচ্ছাকারে ডিম পাড়ে। ডিমের রঙ প্রথম দিকে সবুজ থাকলেও ক্রমশ তা বাদামি থেকে কালো বর্ণ ধারণ করে। ডিম ফুটে লার্ভা বের হয়ে তা পাতার সবুজ অংশ খেতে শুরু করে। পোকা গুলো পাতার নিচে অবস্থান করে। প্রথম দিকে ২-৩ টি পাতায় দেখা যায়। অল্প কিছুদিনের মাঝে পোকা পুরো ক্ষেতে ছড়িয়ে পরে। পাতা খাওয়া শেষ হলে এরা গাছের ডগাও খেতে শুরু করে। এভাবে এরা পুরো ফসলের ক্ষেত নষ্ট করে দেয়। 
 

দমন ব্যবস্থাপনা
 

  • ফসলের জমি আগাছামুক্ত রাখা।
  • আক্রান্ত জমি থেকে যাতে অন্য জমিতে না যেতে পারে সে জন্য নালা বা ড্রেইন করা।
  • আলোক ফাঁদ ব্যবহার করা। 
  • পোকার ডিম, লার্ভা, পিউপা সংগ্রহ করে পিষে মেরে ফেলা।
  • পোকার আক্রমণ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি মর্টার ৪৮ ইসি মিশিয়ে স্প্রে করা। আক্রমণ বেশি হলে প্রতি সপ্তাহে ১ বার স্প্রে করা।  
     

Recommended Solution

Share this post