গমের ব্লাস্ট একটি ক্ষতিকর ছত্রাক জনিত রোগ। ১৯৮৫ সালে সর্বপ্রথম দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এ রোগটি দেখা যায়। পরবর্তীতে দক্ষিণ আমেরিকার বাকি দেশগুলোতে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েতে থাকে। বাংলাদেশে এ রোগটি প্রথম দেখা যায় ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে । তখন দেশের গম উৎপাদনকারী বিভিন্ন জেলার প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে এ রোগে প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। সে মৌসুমে গমের ফলন এলাকা ভেদে ২৫ থেকে ৩০ ভাগ কমে যায়। বাংলাদেশে গমের ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব খুব বেশি দিন না হলেও এর ক্ষতির তীব্রতার কারনে বর্তমানে এটি গম চাষের অন্যতম প্রধান রোগ।
রোগের বিবরণ
রোগের কারনঃ Magnaporthe oryzae pathotype triticum
ছত্রাকটি মূলত গাছের শীষে আক্রমণ করে।
শীষের আক্রান্ত স্থানে কালো দাগ পরে এবং দাগের উপর অংশ সাদা হয়ে যায়।
শীষের গোড়ায় আক্রমণ হলে পুরো শীষই সাদা হয়ে যায়।
আক্রান্ত শীষের দানা অপুষ্ট হয়, কুঁচকে ��ায় এবং ধূসর বর্ণের হয়ে যায়।
পাতায়ও ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে চোখের মত ধূসর বর্ণের ছোট ছোট দাগ পড়ে।
রোগের বিস্তার
আক্রান্ত বীজ, বাতাস, কৃষি যন্ত্রপাতির মাধ্যমে এ রোগ ছড়িয়ে থাকে।
প্রথমে আক্রান্ত জমির কোনো কোনো স্থানে শীষ সাদা হতে দেখা যায়। অনুকূল আবহাওয়াতে আশেপাশের গাছে দ্রুত রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গাছের সবুজ অংশের সাথে সাদা শীষের অংশ সহজেই আলাদা করা যায়। যা দেখে রোগটি সহজেই চিহ্নিত করা যায়।
বৃষ্টির কারণে গাছের শীষ ১২ থেকে ২৪ ঘন্টা ভেজা থাকলে এবং তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে এ রোগে প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়।
রোগটির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত এর প্রতিকারের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে এ রোগের কারনে পুরো ফসলের জমি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
রোগের প্রতিকার
ব্লাস্ট মুক্ত জমি থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে।
বীজ বপনের পূর্বে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
ঘাস জাতীয় আগাছা যেমন চাপড়া, শ্যামা, আঙ্গুলি ঘাসের মধ্যে এ জীবাণু বাস করতে পারে। তাই ক্ষেত আগাছা মুক্ত রাখতে হবে ।
নিয়মিত ক্ষেত পরিদর্শন করতে হবে।
রোগের লক্ষণ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম “বীর” ৭০ ডব্লিউপি মিশিয়ে ভালোভাবে গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।