ভুট্টার ফল আর্মি ওয়ার্ম

ভুট্টা ফসলের একটি মারাত্মক ক্ষতিকর ও বিধ্বংসী পোকা হল ফল আর্মি ওয়ার্ম বা কাটুই পোকা। পূর্বে এটি আমেরিকা মহাদেশের পোকা হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে সারা পৃথিবী জুড়ে এর বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। ২০১৮ সালে প্রথম ফেরোমোন ফাঁদের মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলের জেলা সমূহে এর উপস্থিতি সনাক্ত করা হয়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের ভুট্টা উৎপাদনকারী প্রায় সব জেলাতেই এই পোকার আক্রমণ লক্ষণীয় পর্যায়ে বেড়েছে। চলুন পোকাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

 

পোকা পরিচিতি 
 

বৈজ্ঞানিক নামঃ Spodoptera frugiperda
বর্গঃ Lepidoptera 

  • পোকার উপরের পৃষ্ঠে দুই পাশে লম্বালম্বি ভাবে গাঢ় রংয়ের দাগ দেখা যায় এবং মাথায় উল্টা Y এর মধ্যে জালের মতন দাগ থাকে।
  • দেহের পৃষ্ঠদেশের অষ্টম খন্ডে চারটি গোলাকার কালো দাগ দেখা যায়।
  • পোকার জীবনচক্রে চারটি ধাপ থাকে- ডিম, কীড়া, পুত্তলি এবং পূর্ণাঙ্গ পোকা। পোকা শীতকালে ৭০-৭৫ দিন এবং গ্রীষ্মকালে ৩০-৩৫ দিন বাঁচে।
  • স্ত্রী পোকা গাছের গোড়ার দিকে পাতার নিচে অথবা পাতা ও কান্ডের সংযোগস্থলে একসাথে ১০০-২০০ টি 
    ডিম পাড়ে। একটি স্ত্রী পোকা তার জীবনচক্রে ১৫০০-২০০০টি ডিম পাড়তে পারে

 

ক্ষতির ধরন 
 

  • ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার সাথে সাথেই পাতার কচি অংশ খাওয়া শুরু করে।
  • এরা গাছের কানের মত মোড়ানো অংশ এবং মোচার চারপাশে মোড়ানো পাতা খেতে পছন্দ করে 
    মোচার চারপাশের পাতা খাওয়ার পর এরা মোচার ভেতরে ঢুকে নরম দানা গুলো খায়। 
  • প্রাথমিক অবস্থায় এদের খাদ্য চাহিদা কম থাকলেও দিন দিন এদের খাদ্য চাহিদা বাড়তে থাকে এবং ধীরে ধীরে রাক্ষুসে হয়ে ওঠে। জীবন চক্রের শেষের দিকে এদের খাদ্য চাহিদা প্রাথমিক অবস্থার প্রায় ৫০ গুন হয়।  
    সঠিক সময়ে এই পোকা দমনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থার না নিলে এক রাতের মধ্যে সমস্ত ফসল নষ্ট করে দিতে পারে। 

 

দমন ব্যবস্থাপনা 
 

  • নিয়মিত ভুট্টার ক্ষেত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। গাছে পোকা ও পোকার ডিম দেখলে পিষে মেরে ফেলতে হবে। 
  • এই পোকা দমনে ফেরোমন ফাঁদ খুবই কার্যকরী। বিঘা পতি পাঁচটি ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করতে হবে।
  • ফসল চক্র অনুসরণ করতে হবে। একই জমিতে বারবার ভুট্টা চাষ না করে এক মৌসুমে ভুট্টা এবং তার পরবর্তী মৌসুমে ধান চাষ করলে এই পোকার আক্রমণ কম লক্ষ্য করা যায়। 
  • পোকার আক্রমণ দেখা দিলে ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার এর “মর্টার” ৪৮ ইসি ব্যবহার করতে হবে। 
    ডোজঃ প্রতি লিটার পানিতে ৭ মিলি মর্টার মিশিয়ে গাছ ভিজিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।
     

Recommended Solution

Share this post